সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ডিসেম্বর, ২০২৩ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মোহাম্মদী ইসলামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?

 আমিত্ব ত্যাগ করে আল্লাহর কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পনের মাধ্যমে পার্থিব জীবনে নিজেকে পরিচালিত করার নামই ইসলাম। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.) মোহাম্মদী ইসলাম প্রবর্তন ও প্রচার করেছিলেন। এটাই হলো আল্লাহর মনোনীত শ্রেষ্ঠ ধর্ম। এই বিধানই বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানব জাতির শান্তি, মুক্তি ও কল্যাণের জন্য প্রচার করেছিলেন। পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত এই মোহাম্মদী ইসলামে রয়েছে মানব জাতির জন্য পরিপূর্ণ জীবন বিধান। সুরা আল ইমরানের ১৯ নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য একমাত্র জীবন বিধান হলো ইসলাম।" কিভাবে একজন মানুষ তাঁর দৈনন্দিন জীবন পরিচালনা করবে, কিভাবে সে পাপকর্ম থেকে বিরত থেকে আত্মশুদ্ধি অর্জন করবে, কিভাবে মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি জীবনে শান্তি লাভ করবে- এই সবকিছুই এতে সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। ইসলামের সামগ্রিক অর্থ হলো আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ। মহানবি (সা.) এর দেখানো এই আদর্শে পরিচালিত হওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। আমরা যদি সুরা আল ইমরানের ১০২ নং আয়াতের দিকে দৃষ্টিপাত করি,তাহলে এই বিষয়টি আমাদের কাছে আরো সু...

মোহাম্মদী ইসলামের কেন আগমন হয়েছিল?

 যখন আরব, অ-আরব, এশিয়া, ইউরোপসহ পুরো পৃথিবীর অবস্থা খুব খারাপ ছিল, মানুষে-মানুষ হানাহানি, অন্যায়-অবিচার, শোষণ খুব সাধারণ বিষয় ছিল, যখন মানুষ আল্লাহকে ভুলে শিরক ও পৌত্তলিকতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছিল, যখন অশুভ শক্তির জয়জয়কার চলছিলো সর্বক্ষেত্রে, ঠিক এমনই এক যুগসন্ধিক্ষণে ঈসা (আ.) এর জন্মের ৫৭০ বছর পর মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর আগমন হয়েছিল এই পৃথিবীতে। তিনি চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়ত প্রাপ্ত হয়ে আল্লাহর নির্দেশে ইসলামের সুমহান বাণী মানুষের মাঝে প্রচার করতে শুরু করেছিলেন। তিনি নবুওয়ত লাভের পূর্বে পবিত্র হেরা গুহায় সুদীর্ঘ ১৫ বছর ধ্যান সাধনায় নিয়োজিত ছিলেন। ইহকাল ও পরকালে মানুষের শান্তি নিশ্চিত করার জন্যই মোহাম্মদী ইসলামের উদ্ভব হয়েছিলো।

মোহাম্মদী ইসলাম পালন করা কি ফরজ (বাধ্যতামূলক)?

 আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সুরা আল মায়েদার ৩ নং আয়াতে বলেন, "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দিনকে (ধর্ম) পূর্নাঙ্গ করলাম, তোমাদের উপর আমার নেয়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে দিন হিসেবে তোমাদের জন্য মনোনীত করলাম।" এই আয়াতের মাধ্যমে রসুল (সা.) এর প্রচারিত ধর্ম পালনের প্রয়োজনীয়তা সহজেই উপলব্ধি করা যায়। কোনো সৌভাগ্যবান ব্যক্তি যদি ইসলাম গ্রহণ করে থাকে, তাহলে সে মূলত নিজেকেই নিজে দয়া করছে। আল্লাহ বলেন, "তাঁরা মনে করে ইসলাম গ্রহণ করে তাঁরা তোমাকে ধন্য করেছে। বলুন (হে রসুল) বরং আল্লাহই তোমাকে ইমানের দিকে পরিচালিত তোমাদেরকে ধন্য করেছেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো। (সুরা: হুজুরাত, আয়াত নং: ১৭)। সৃষ্টির শুরু থেকেই আল্লাহর প্রেরিত নবি-রাসুলগন মানুষকে আল্লাহর একত্ববাদের দিকে আহ্বান করেছেন; আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী পার্থিব ও পরকালীন জীবনে শান্তি নিশ্চিত করার পথ দেখিয়েছেন। ইসলাম তথা আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পনের ধর্ম সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি ও রসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রবর্তিত ধর্ম 'মোহাম্মদী ইসলাম' দ্বারা পূর্ণতা পেয়েছে। সুতরাং এই ধর্মীয় আদর্শ গ্রহণ ও ব্যক্তি জীবনে এর অন...

মোহাম্মদী ইসলাম- শান্তির পথ

 ইসলাম শুধু একটি ধর্মের নামই নয় বরং এটি একটি আদর্শের নাম যা একজন মানুষকে শান্তির পথে ধাবিত করে। ষষ্ঠ শতকের প্রথম দশকে হজরত মোহাম্মদ (সা.) এই আদর্শের প্রবর্তন ও প্রচার করেন। আর এ কারণেই একে মোহাম্মদী ইসলাম নামে আখ্যায়িত করা হয়।  রসুল (সা.) এর আদর্শ অনুযায়ী একজন ব্যক্তির আরেকজন ব্যক্তির ক্ষতি করার কোনো অধিকার নেই। নিজেকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এই আদর্শিক বিধানের মূল শিক্ষাই হলো আত্মবিশ্লেষণের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন করা। যখন মানুষ আত্মশুদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে সকল প্রকার কুপ্রবৃত্তি থেকে মুক্তি লাভ করবে তখনই সমাজ পরিশুদ্ধ হবে এবং ফলশ্রুতিতে সর্বক্ষেত্রে শান্তি বিরাজ করবে।