গত ১৫/০১/২০২১, শুক্রবার দেওয়ানবাগ শরীফের বাবে রহমতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আয়োজিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহফিলে দেওয়ানবাগ শরীফের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বত্বাধিকারী, শ্রেষ্ঠ সংস্কারক, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী, যুগের ইমাম, আম্বিয়ায়ে কেরামের ধর্মের দায়িত্ব ও বেলায়েত লাভকারী, আল্লাহর দেওয়া পুরস্কার : পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রাহমতুল্লাহি আলাইহি) হুজুর কেবলাজানের ধারণকৃত ০৯/১০/২০২০ তারিখের বাণী মোবারক।
===============================================
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আলহামদুলিল্লাহি নাহমাদুহু ওয়া নাসতাইনুহু ওয়া নাস্তাগফিরুহু ওয়া নাউযুবিল্লাহ মিন শুরুরি আনফুসিনা ওয়া মিন সাইয়্যিয়াতি আমালিনা মাইইয়াহদিল্লাহু ফালা মুদিল্লালাহু ওয়ামাই ইয়ুদলিল ফালান তাজিদালাহু ওয়ালিয়াম মোর্শেদা।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আপনারা আমার সালাম গ্রহণ করুন। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিভিন্ন কারণে আমরা একত্রে সম্মেলন করার সুযোগ পাচ্ছি না। আমাদের সম্মেলনে মহিলারা কখনো আসতে পারত না। ফলে মহিলাদের জন্য আমি আলাদা মহিলা সম্মেলন করে দিয়েছিলাম। এরপরে পর্যায়ক্রমে মহিলা সম্মেলনে মহিলারা আসতে পারত। মহিলারা মহিলাদের দ্বারা সবকের পরামর্শ নিতে পারত। কিন্তু এই পরামর্শ আমি বলে দিতাম, কী করতে হবে। এখন আল্লাহর দয়ায় সম্মেলনের মাধ্যমে আপনারা নারী-পুরুষ সবাই আমাকে পর্দা রক্ষা করে দেখতে পারেন, আমার কথা শুনতে পারেন। এটি তো আপনাদের জন্য একটা শুভ সংবাদ। নিয়মিত আমরা আগে যেমন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সম্মেলন করতাম, এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি আল্লাহ চাহে তো প্রতি শুক্রবারে আশেকে রাসুলদেরকে নিয়ে আমরা এই সম্মেলন করতে পারব। আমাদের এই সম্মেলনের বাণী আপনারা যে যেখানে থাকেন, সেখান থেকেই নিজের কানে শুনতে পারবেন, চোখে দেখতে পারবেন এই ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। পর্যায়ক্রমে এটি আরো বৃদ্ধি পাবে।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আপনারা দুঃখিত ছিলেন যে, ময়মনসিংহ ত্রিশাল আমাদের বাবে বরকত দরবার শরিফ আমাদের হাতে ছিল না। এমন কী ঐখানে গিয়ে জায়গা জমি মাপারও কোনো সুযোগ ছিল না। রাব্বুল আলামিনের দয়ায় আমরা বিপথগামী সাঈদুর এবং তার স্ত্রী ও ছেলেদেরকে দরবার থেকে বিতাড়িত করে দিয়েছি এবং ত্রিশাল দরবার আমরাই এখন পরিচালনা করছি। আজকেও যারা ত্রিশাল দরবারে এসেছে আমি সরাসরি তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছি আপনারা প্রতি শুক্রবার অনুষ্ঠান করবেন, আগে মাসে একটা অনুষ্ঠান হয়েছে। এখন প্রতি শুক্রবারে আপনারা ত্রিশাল দরবারে আসবেন নারী-পুরুষ সবাই। আসলে আমরা ঐখানে সিস্টেম করে দেব ঐখান থেকে যেন মহিলা জাকেররা আমাদেরকে দেখতে পারেন এবং বক্তব্য শুনতে পারেন। তাহলে এটি কি সবার জন্য ভালো হবে না? সারা দেশে সবাই আমাদের এই অনুষ্ঠান শুনতে পারবে এবং দেখতে পারবে। অসংখ্য জাকের হওয়াতে সম্মেলন করে কোথাও আমি জায়গা দিতে পারতাম না। ফলে রাস্তার মধ্যে সম্মেলন করেছি। এখন এই অবস্থায় আমি পরে সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিভিন্ন জেলায় দরবার করে দেব, যেন জাকেররা সম্মেলনের ফায়েজ বরকত লাভ করতে পারে। এই উদ্দেশ্যে আমি ১১টা দরবার শরিফ প্রতিষ্ঠা করেছি। করার পরে সব দরবারেই ঠিকঠাক মতো চলছে, শুধু সাঈদুর মিয়া নিজের স্বার্থের জন্য মনগড়া ভাবে ত্রিশাল দরবারকে তার দরবার বানিয়ে নিয়েছিল। একটা পুকুরকে জমজম পুকুর বানিয়েছে। এমন সব অবাস্তব কথা ও কাজ, যা তরিকার সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নেই, এমন কর্ম সে চালু করেছে! এসব কারণে আমি তাকে দরবার থেকে, তরিকা থেকে প্রকাশ্য বিপথগামী বলে বিতাড়িত করে দিয়েছি। এখন ত্রিশাল দরবারেও সে নাই, আর আমাদের বাবে রহমতেও সে নাই। সে চলে গেছে তার বাড়িতে।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আমি আগেও আপনাদেরকে বলছি যে, আমি কোনো মনগড়া ধর্ম করতে কাউকে সুযোগ দেব না। তাকে আমি বিতাড়িত করে দিয়েছি। এর আগেও যারা মনগড়া কিছু করেছে তাদেরকেও আমি তরিকা থেকে বের করে দিয়েছি। আমি চাচ্ছি মোহাম্মদী ইসলামের মধ্যে কোনো দল যেন না হয়। মোহাম্মদী ইসলাম হযরত রাসুল (সা.)-এর ইসলাম। এই ইসলামে যেন ফেতনা সৃষ্টি না হয়। আপনারা নিয়মিত তরিকার আমল করবেন, আর দরবার শরীফের সাথে যোগাযোগ করবেন।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আপনারা শুনেছেন প্রত্যেক সম্মেলনে সাঈদুর দুইবার তিনবার ভাষণ দিতো। বুঝাতে চাইতো সে ছাড়া যোগ্য কেউ নাই! অথচ সে সবচেয়ে অযোগ্য। আমি কয়েকবার বলেছি, কথা শুনে না। সে নিজে নিজে সাঈদুর রহমান আল-মাহবুবী লিখেছে। আমার কোনো ছেলের নামে আল মাহবুবী আছে? তার সার্টিফিকেট দেখেন ম্যাট্রিক, ইন্টার, ডিগ্রি কোনো সার্টিফিকেটে আল-মাহবুবী আছে কিনা! এটা মনগড়া লাগিয়ে নিয়েছে। মহাসচিব তো আমি তাকে বানাইনি। সে মনগড়া মহাসচিব হয়েছে। তার স্ত্রীকে আমি ৩৩টা শর্ত দিয়ে কুতুবুল আকতাব বানিয়েছিলাম। এর প্রথম শর্তটিই ছিল, তুমি পক্ষপাতিত্ব করতে পারবা না। করলে তুমি বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তুু সে তার স্বামীর পক্ষ নিয়ে পক্ষপাতিত্ব শুরু করেছে। তখন আমি ঘোষণা দিয়ে দিয়েছি, তুমিও বাতিল। আমিতো ছেলেমেয়ে নিয়ে কবরে যাব না। আমিতো যাব আল্লাহ ও হযরত রাসুল (সা.)-এর দয়া নিয়ে। এরা যদি উল্টাপাল্টা কাজ করে আমি তাদেরটা সাপোর্ট করব কেন? এর আগেও একাধিক দল হয়েছে, আমি গ্রæপই বের করে দিয়েছি। এই সাঈদুরের দলটাকেও বের করেছি। এদেরকে যারা সাপোর্ট করে তাদেরও বের করে দিয়েছি।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
সাঈদুর অনেক মিথ্যা কথা বলে। এই মিথ্যা কথার কারণে তাকে তাড়িয়ে দিয়েছি। আগে আমি কয়েকবার ওয়ার্নিং দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত কথা শুনে না, তাড়িয়ে দিলাম। এখন ত্রিশাল দরবার শরীফ আমাদের লোক দ্বারা পরিচালিত। আমরা শীঘ্রই একজন ইমাম দিয়ে দিব, যে দরবার পরিচালনা করবে, আর দরবার থেকে আমার ছেলেরা যাবে। বলে দিয়েছি আগে মাসিক মাহফিল হতো। ঐখানে দুই আড়াই হাজার মহিলা জাকের আসত। আগামী সপ্তাহ থেকে মহিলারা ঐ দরবারে আসবে। আমাদের জাকের যারা আছে তাদের স্ত্রীরা, তাদের মেয়েরা আগামী শুক্রবার থেকে জলসায় আসা শুরু করবে। হযরত বড় মা (রহ.)-এর রওজা শরিফ জিয়ারত করবে। যদি আমাদের সুযোগ থাকে আমার মেজো মেয়েটাকে মাঝে মাঝে পাঠাব। সেই প্রথম ত্রিশালের মেয়েদের সবক দিয়েছিল। সে মাঝে মাঝে কোনো অনুষ্ঠানে যাবে। আর সাঈদুরের স্ত্রী তাহমিনা আর কোনো সময় ত্রিশাল দরবারে যেতে পারবে না। তাকে আমি বহিষ্কৃত করেছি।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আমার ছেলেদেরকে দায়িত্ব দিয়েছি যে তোমার তরিকাটা ধরো এবং আমার ৪ ছেলে সবাই ডক্টরেট এবং অনার্স ও মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে গোল্ড মেডেল পেয়েছে। এরা ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে উচ্চ ডিগ্রি নিয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষকতা করছে। এরা কি যোগ্য না! যে ইসলামিক স্টাডিজ পড়েই নাই সে যোগ্য? কে যোগ্য? সুতরাং অযোগ্য লোককে কোনো নেতৃত্বে আমি রাখতে চাচ্ছি না।
আপনারা কোনো ফেতনায় জড়াবেন না। ফেতনা করলে নিজেদেরই ক্ষতি। আপনারা যারা লেখাপড়া করেছেন আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে যখন প্রাইমারিতে পড়তেন যারা আপনার পরম বন্ধু ছিল হাইস্কুলে গেছেন পরে তারা একজনও নাই। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছেন পরে আপনাদের পরিচিত ছাত্র কেউ নাই। কিন্তু আপনারা যারা পড়াশোনা করেছেন তারা ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন। আল্লাহ ও হযরত রাসুল (সা.)-কে পাওয়ার তরিকার ডিগ্রিটা এইরকম। সবাই একসাথে যে পাশ করবেন, থাকতে পারবেন এই চিন্তাটা বাদ দেন। আপনি সাধনা করেন, তাহলে মঞ্জিলে মকসুদে আপনি পৌঁছে যাবেন। যে সাধনা করে না, সে পৌঁছতে পারবে না। সে অটোমেটিক বাদ হয়ে যাবে। সুতরাং নিয়মিত তরিকার আমল করেন। তরিকার সাধনা করেন।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আমার এখানে সুযোগ আছে। আপনারা যদি মহব্বতের সাথে তরিকার কাজ করেন আপনাদের মধ্যে মুমেন, মুমেনে কামেল, মুমেনে মোকাম্মেল হওয়ার সুযোগ আছে। আপনাদের মধ্যে তরিকার উচ্চ ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ আছে। আমিতো ২৪ দায়রা পর্যন্ত জাকেরদেকে সবক দিতে পারি। এখন আপনারা যদি সবক না নেন, শিক্ষা না করেন আমি কাকে এই সবকগুলা দেবো? আপনার নিয়মিত তরিকার আমল করেন। আমি আস্তে আস্তে চেষ্টা করব সবক বাড়িয়ে দিতে। আমি আল্লাহর পরিচয়ের প্রকাশের জন্য ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’ কোরআনের তাফসীর লিখেছি। ঐ তাফসীরে আল্লাহর পরিচয়, আল্লাহকে দেখার বিস্তারিত লিখেছি। হযরত রাসুল (সা.)-এর পরিচয় বিস্তারিত লিখেছি, এখনও লিখছি। সুতরাং আমি চাচ্ছি ধর্মের যেটা আমরা হারিয়ে ফেলেছি, সেটা কতটুকু আবার জাতিকে দিয়ে যেতে পারি।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আমি যদি আমার মোর্শেদের দরবারে না যেতাম, তাহলে হয়তো আমি ধর্ম থেকে অনেক দূরে থাকতাম। মাদ্রাসা থেকে পাশ করে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ৩নং সেক্টরে আমি মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। অস্ত্র হাতে নিয়ে সামনা সামনি পাক বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেছি। এরপরে দেশ স্বাধীনের পরে মুক্তিযুদ্ধের যখন ব্যাটেলিয়ন করা শুরু হলো তখন ১৬ বেঙ্গল রেজিমেন্টে আমি রিলিজিয়াস টিচার ছিলাম। আল্লাহ পাকের দয়ায় ঐখান থেকেই মোর্শেদের সন্ধান পেলাম। তারপরে মোর্শেদের দরবারে ১ যুগ গোলামি করে আল্লাহ ও হযরত রাসুল (সা.)-এর পরিচয় জানতে পেরেছি। আমাদের বিধানে ছিল দুনিয়াতে আল্লাহকে দেখা যাবে না। আল্লাহকে দেখলে তার ইমান থাকবে না। কিন্তু মোর্শেদের দরবারে গিয়ে শিখলাম যে, আল্লাহকে দেখতে না পারলে সেতো ইমান নিয়ে কবরে যেতে পারবে না। সুতরাং এই আল্লাহকে দেখার বিদ্যা মোর্শেদের দরবারে গিয়ে শিখলাম এবং এই তরিকা প্রচার শুরু করলাম। আমার মোর্শেদ আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ধর্মের সংস্কার করার জন্য। মোর্শেদের নিদের্শে আমি আমার অক্ষমতা সত্তে¡ও সংস্কার শুরু করেছি। আল্লাহ পাকের দয়ায় আমি ধর্মের অনেক সংস্কার করেছি, যা বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়ন করেছে।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আমাদের ইমামরা যে জুমার খুতবা দেওয়ার সময় মিম্বরে দাঁড়িয়ে যে জায়গায় দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেয়, সে নামাজের বিছানার মধ্যে একপাশে কাবা ঘরের ছবি, আরেক পাশে হযরত রাসুল (সা.)-এর রওজা শরিফের ছবি। কাগজে যদি হযরত রাসুল (সা.)-এর রওজা শরিফের ছবি থাকে, সেখানে পা লাগলে ঐটাতে সালাম করে না? কিন্তু জায়নামাজে পা দিয়ে নামাজ পড়ছে। খুতবা দেওয়ার সময় পা রেখে খুতবা পড়ছে। এটা কি বেয়াদবি নয়? আমি এটার বিরুদ্ধে সরকারকে জানিয়েছিলাম যে, এটা চরম বেয়াদবি, এটা বন্ধ করা হোক। এরপর থেকে এটা বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২ বছর আগে দেখলাম সৌদি আরবে মক্কা শরীফেও ঐটা বন্ধ করে দিয়েছে। এই যে আমি এখানে সংস্কার করলাম, আমার এই সংস্কারটা সৌদি আরবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
আরও অসংখ্য সংস্কার আমি করেছি, যেগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। আপনারা পালন করছেন। মনোযোগ দিয়ে তরিকার কাজ করেন, আর যে যখন সময় পান দরবার শরীফে আসবেন। মোর্শেদকে দেখবেন, মোর্শেদের খোঁজ-খবর রাখবেন। আমিন!
==============================================================================================
অনুষ্ঠানে সেজো সাহেবজাদা ইমাম সৈয়দ এ. এফ. এম. ফজল-এ-খোদা (মা.আ.) বক্তব্য রাখেন এবং কনিষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম সৈয়দ এ. এফ. এম. মঞ্জুর-এ-খোদা (মা.আ.) আখেরি মোনাজাত করেন। সেজো সাহেবজাদা ইমাম সৈয়দ এ. এফ. এম. ফজল-এ-খোদা (মা.আ.)-এর বক্তব্যটি নিম্নে উপস্থাপন করা হলো-
সম্মানিত আশেকে রাসুল ভাইয়েরা!
আপনারা আমার সালাম গ্রহণ করুন। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। এখন থেকে প্রায় ১৫/১৬ বছর আগে দয়াল বাবাজানের পুরাতন কিছু অডিও-ভিডিওর কাজ করছিলাম। বাবাজানের কিছু বাণী সংরক্ষণ করে লিখে রাখতেছিলাম। পরবর্তীতে আমরা ইমাম শাহ চন্দ্রপুরী (রহ.)-এর কিছু অডিও কালেক্ট করতে পেরেছিলাম। অডিও থেকে চন্দ্রপুরীর বানী লিখতে গিয়ে আমরা একটা জায়গায় গিয়ে আটকিয়ে গেলাম। কারণ অনেক আগের অডিও তো, বোঝা যাচ্ছিল না চন্দ্রপুরী হুজুর কী বলতেছেন। চন্দ্রপুরী একজন ব্যক্তির নাম বলতেছিলেন কিন্তু বুঝা যাচ্ছিল না। তখন আমার অন্তর থেকে আসলো যে, এটা যদি কেউ বলতে পারেন একমাত্র আমার মহান মোর্শেদ বাবা দেওয়ানবাগী বলতে পারবেন। সেদিন আমি রেকর্ডিং অফ করে বাবাজানের কাছে গেলাম। কোনো সাল বলি নাই, কোনো দিন বলি নাই। শুধু বাবাজানকে বললাম, বাবাজান! চন্দ্রপুরীর বানীর একটা অডিও ছিল, ঐটা লিখছিলাম, কিন্তু এক জায়গায় আটকে গিয়েছি, লিখতে পারতেছিনা। বাবাজান বললেন, কেন, কী হইছে? আমি বাবাজানকে বললাম, যে বাবাজান! ঐ অডিওটাতে চন্দ্রপুরী একজনের নাম বলছে। কিন্তু নামটা অডিওর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বোঝা যাচ্ছে না। বাবাজান বললেন, ইমাম হুজুর আগে পরে কী বলেছেন? আমি আগের একটা কথা বললাম। বলার পরে বাবাজান সাথে সাথে ঐ লোকের নামটা বলে দিলেন। নামটা বলে দিয়ে বললেন, এই নামটার কথা তখন ইমাম হুজুর বলেছেন।
আরেকটা বিষয় আমি আপনাদেরকে অবগত করতে চাই। আমাদের আশেকে রাসুল শিবু ভাই তার জীবদ্দশায় মোর্শেদের জন্য অক্লান্তভাবে পরিশ্রম করে গেছেন। তিনি মোর্শেদের একজন গোলাম ছিলেন। উনি ক্যান্সারে মারা যান। ওনার যখন ক্যান্সার হয় তখন আমি বাবাজানের কাছে সংবাদটি দিতে যাই। উনার জন্য বাবাজানের কাছে দয়া চাই। বাবাজান আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কোন শিবু? তখন আমি বললাম, ডিইডির কর্মী শিবু ভাই, সে আপনার সামনে গোলামি করতেন। নাম শুনে প্রথমে বাবাজান চিনছিলেন না। একটু পরে বাবাজান আমাকে বললেন, আচ্ছা, শিবু একটা পাগলী মেয়েকে বিয়ে করছিল, ঐ মেয়েটার জজবা হতো। জজবা হতো দেখে এলাকায় ছড়িয়ে গেছে, এই মেয়ের মাথায় সমস্যা। এই মেয়ের বিয়ে হয় না। পরে ওর সাথে আমি শিবুর বিয়ে দিয়েছি। এটা কী প্রমাণ করে না যে, মোর্শেদ তাঁর মুরিদের হাঁড়ির খবর রাখেন।
বাবা দেওয়ানবাগী আমার মহান মোর্শেদ এবং সেই সাথে আমার পিতা। আমরা জীবদ্দশায় পিতা হিসাবে মোর্শেদকে যতটুকু কাছে পেয়েছি তার চেয়ে কয়েকশ গুণ বেশি আপনারা মোর্শেদ হিসাবে তাকে কাছে পেয়েছেন। আমাদের ছোটোবেলায় সকল আবদার থাকত দয়াল মা-এর কাছে। কারণ বাবাজান আশেকে রাসুলদেরকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। আজ শুক্রবার দয়াল বাবাজানের ওফাতের ১৮ দিন পার হয়ে গেল। আমি জানি আশেকে রাসুলরা অন্তরে কষ্ট, মোর্শেদের প্রতি ভালবাসা চেপে আছেন। আমি আপনাদেরকে একটু বড়োভাবে চিন্তা করতে বলব। জাহেরিয়াতে যদি আমরা চিন্তা করি মোর্শেদ পর্দা করছেন এই কথাটা সত্য। কিন্তু একজন অলী-আল্লাহ আর একজন সাধারণ মানুষের ইন্তেকাল এক রকম নয়। একজন সাধারণ মানুষ জানে না কখন সে মারা যাবে।
আজ আপনারা দয়াল বাবাজানের বক্তব্য মোবারকটা শুনেছেন. এটা বাবাজানের ওফাতের কিছুদিন আগে দেওয়া। এটা শুনে আপনাদের কি মনে হইছে না - বাবাজান বলে যাচ্ছেন বাবাজান আর থাকবেন না? মালিক দয়া করছে আমার এই বানী মোবারকের এডিট করার গোলামীর সুযোগ হইছে। আমি যখন শুনলাম বাবাজান স্পষ্ট ভাষায় বলছেন, আপনারা এখন থেকে আমাকে দেখতে পারবেন। আমাকে শুনতে পারবেন। বলে চুপ হয়ে গেছেন। মানে সরাসরি আর আমাকে পাবেন না। এরপর আশেকে রাসুলরা সত্যি সরাসরি আর মোর্শেদকে জাহেরাতে পায় নি। কিন্তু যারা মনে কষ্ট পাচ্ছেন তাদেরকে আমি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আমি রওজায় গিয়েছিলাম কাজের জন্য। রওজায় গিয়ে বাবাজানকে সালাম করলাম, দয়াল মাকে সালাম করলাম। এগুলো আসলে মারেফতের কথা। আমি জানি শরিয়তের হুজুরেরা শুনলে এখন ফতোয়া দেওয়া শুরু করবে, কিন্তু আশেকে রাসুলদেরকে বলছি যে, আমি গিয়ে দেখলাম, একটা খাটের মধ্যে দয়াল মা এবং আমাদের মহান মোর্শেদ বসে গল্প করছেন। আমি যা দেখছি আমি ভুল দেখি নাই। কারণ মোর্শেদের রুহানি রূপ কখনও শয়তান ধারণ করতে পারে না এবং তাদেরকে আমি দেখছি খুব হাস্যোজ্জল অবস্থায়। দয়াল মা জীবিত থাকতে দয়াল বাবাজান যেরকম খুশি হাস্যোজ্জল থাকতেন ঐরকম ভাবে দেখেছি। আর যারা দেওয়ানবাগী হেইটার্স আছে, যারা নাকি দেওয়ানবাগীকে ঘৃণা করে তাদের জন্য একটা দুঃসংবাদ দিতে চাই। দুঃসংবাদটা হলো, যারা মনে করছ দেওয়ানবাগী মরে গেছেন, সব শেষ! কখনো না, এইটা তোমাদের ভুল ধারণা। দেওয়ানবাগী জাহেরিয়াতে পর্দা করছেন সত্য, কিন্তু বিশ্বাস করো দেওয়ানবাগী হলো একটা প্রদীপের মতো। যেই প্রদীপ নিজে সারাটা জীবন জ্বলে আশেকে রাসুলদেরকে আলোকিত করে গেছেন। আর প্রদীপ থেকে এখন লক্ষ লক্ষ আশেকে রাসুল দেওয়ানবাগীর রূপে রূপান্তরিত হয়েছে। আমাদের যত আশেকে রাসুল আছে প্রত্যেকের অন্তরে দেওয়ানবাগী আছেন। তোমরা যারা আনন্দিত হচ্ছ, আলহামদুলিল্লাহ বলছ, তাদের জন্য দুঃখের কারণ, এতদিন দেওয়ানবাগী একজন ছিলেন; এখন তোমার ঘরের ভিতরে দেওয়ানবাগী। তোমার অন্তরের ভিতরে দেওয়ানবাগী। কয় দেওয়ানবাগীরে তোমরা মারবা? তোমরা আল্লাহর ক্ষমতার কাছে অতি তুচ্ছ। দেওয়ানবাগীর ক্ষমতার কাছে অতি তুচ্ছ।
সম্মানিত আশেকে রাসুল ভাইয়েরা!
আমি আপনাদেরকে একটা কথা অবগত করতে চাই, আমাদের দরবার শরিফে অলরেডি ফেতনা শুরু হয়েছে। ফেতনা কী? মোর্শেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেউ যদি কোনো কাজ করে থাকে, সেটাই হচ্ছে ফেতনা। ফেতনাকারিরা আশেকে রাসুলের রূপ ধারণ করে নতুন কিছু অপপ্রচার করতে চায়।
অনেকগুলো ফেতনা শুরু হচ্ছে। যে ৩টা ফেতনা বাবাজানের ওফাতের পরে আমার কানে আসছে আমি একটা একটা করে আলোচনা করতে চাই। একটা হচ্ছে হাসপাতাল ইস্যু। একদল ঢালাও করে প্রচার করছে, বাবাজানকে আমরা কেন কোনো নামিদামি বড়ো হাসপাতালে নিয়ে গেলাম না? আমরা কেন উত্তরার মাঝারি মধ্যম শ্রেণির একটা হাসপাতালে নিয়ে গেলাম? আমি আপনাদেরকে স্মরণ করাতে চাই, ওফাতের আগে বাবাজান যখন আমাদেরকে ওসিয়ত করে গেছেন; আমরা বাবাজানের কাছে নির্দেশ চাইলাম, বাবাজান! আমরা আপনাকে হাসপাতালে নিতে চাই। বাবাজান বললেন যে, না। আমি হাসপাতালে যাব না। তোমরা যত কিছুই করো এইবার আমাকে রাখতে পারবা না! মোর্শেদের হুকুমের বাইরে আমাদের কিছু করার সুযোগ নাই। তার কিছুক্ষণ পরে বাইরের রুমে আমি, মেজ হুজুর, ছোটো হুজুর, বড়ো হুজুর আলোচনা করছি, এই অবস্থায় আমাদের কী করণীয় আছে? একদিকে মোর্শেদ হাসপাতালে যেতে চাচ্ছেন না। এর পরবর্তীতে আমরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা আমাদের জীবনের শেষ চেষ্টাটুকু করব, মোর্শেদকে রাখতে পারি আর না পারি! মোর্শেদের থাকার ইচ্ছা নাই এটা আমাদেরকে মোর্শেদ আগের দিনই বলে গেছেন। এরপরে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা হাসপাতালে নিব। হাসপাতালে নিব তো কোন হাপাতালে নিব! বাবাজানকে ইউনাইটেড হাসপাতালে আমরা এর আগে কয়েকবার নিয়েছি । কিন্তু বাবাজান ইউনাইটেড হাসপাতালে যেতে রাজি না। বাবাজান চাচ্ছেন না বাবাজানের শেষ মূহুর্ত আশেকে রাসুলদের ছাড়া থাকবেন। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমাদের জাকের ভাইদের হসপিটাল আছে, যেটার মালিকানা আমাদের আশেকে রাসুলরা। যেখানে গেলে মোর্শেদকে পূর্ণ সম্মানে সর্বোচ্চ সেবা দিতে পারবে। আমাদের একটু দ্বিমত ছিল যে, হাসপাতালে নিব, না নিব না? এমন সময় ডাক্তার মোস্তফা ভাই বাবাজানকে বললেন, বাবাজান! আমরা ইউনাইটেড হাসপাতালে আপনাকে নিব না। উত্তরায় আমাদের জাকের ভাইদের হাসপাতাল আছে। ঐখানে বাবাজান আমরা সবাই আপনার পাশে থাকতে পারব। আর এইখানে যে অক্সিজেন সেচুরেশন কম হচ্ছে ঐখানে অক্সিজেনটা বেশি দেওয়া যাবে। তখন বাবাজান রাজি হলেন।
যে সকল বিপথগামীরা ছড়াচ্ছে যে, আমরা মোর্শেদকে কেন দামী হাসপাতালে নিলাম না! এটা মোর্শেদর ইচ্ছা ছিল। তুমি ফেতনাকারি ফাজিল ওখানে ছিলে না। তুমি জানোনা মোর্শেদের ওছিয়ত কী ছিল। সেই সময়টাতে আমাদের পুরো পরিবারবর্গ সামনে ছিল। বাবাজানের খাদেমরা সামনে ছিল। ফেতনাকারিরা সামনে ছিল না। তাই আমি আশেকে রাসুলদেরকে সতর্ক হতে বলছি, ফেতনাকারিদের কথায় কান দিবেন না এবং এই সকল ফেতনায় জড়াবেন না।
আর একটা ফেতনা হলো মেজো হুজুরকে নিয়ে। মেজো হুজুরের ব্যাপারে একদল আমাদের ভাইদের মধ্যে দ্বন্ধ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। একদল বলছে বাবাজান মেজো হুজুরকে গদিনীশীন বলছেন। এ কথাটা সম্পূর্ণ ভুল। আগে আপনাকে কথাটার সত্যতা যাচাই করতে হবে। আমাদের ভাই-বোনদের মধ্যে বাবাজানের একেকটা গুণ আছে। এই গুণগুলো থাকার কারনে বাবাজান আমাদেরকে একত্রে কাজ করতে বলেছেন। একত্রে কাজ করলে পূর্ণাঙ্গ দেওয়ানবাগী। যদি আমরা আলাদা আলাদা হই, বাবা দেওয়ানবাগীকে ভাগ করে ফেললাম। আমি কী আমার কথা বুঝাতে পেরেছি? বিষয়টা হলো মেজো হুজুরের মধ্যে দেওয়ানবাগীর নেতৃত্ব দেওয়ার গুণটা আছে। বাবাজান যখন আমাকে দায়িত্ব দিছেন দারবারের হিসাব রাখার। তখন আমি বাবাজানের কাছে গিয়ে স্যারেন্ডার করলাম, বাবাজান আমি পারব না। আপনি আমাকে যে দায়িত্ব দিচ্ছেন একটা অনেক বড়ো দায়িত্ব। আমি একটু নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করি। এই কাজ করতে হলে ক্যালিভারের প্রয়োজন। আমার এটা নাই। বাবাজান তখন আমাকে বলছিলেন, তুমি কী মনে কর আমি যাদেরকে যে দায়িত্ব দিয়েছি, না বুঝে দিয়েছি? আমি যাদেরকে যে দায়িত্ব দিয়েছি চিন্তা-ভাবনা করে বুঝে তারপরে দায়িত্ব দিয়েছি। এই কথাটা আমি মেজো হুজুরের বেলায়ও বলব। বাবাজান ওফাতের আগে আমাদের ৪ ভাইকে দেখে একত্রে একমতে চলার জন্য ওছিয়ত করে গেছেন এবং মেজো হুজুরকে বলছেন যে, ৪ ভাইয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। কারণ নেতৃত্বের গুণটা মেজো হুজুরের মধ্যে আছে। এর জন্য এই না যে, আপনারা অন্য ভাইদের সাথে বেয়াদবি করবেন। এমনকি আপনারা কোনো জাকের ভাইয়ের সাথেও বেয়াদবি করতে পারবেন না। মনে রাখবেন, বাবা দেওয়ানবাগী আপনার অন্তরে আছেন। আপনে একটা জাকের ভাইকে ধমক দিবেন, মোর্শেদের আওলাদদের সাথে বেয়াদবি করবেন, মূলত আপনি দেওয়ানবাগীর সাথে বেয়াদবি করলেন। কারণ আশেকে রাসুলদের অন্তরে দেওয়ানবাগী থাকেন।
বাবাজান ওছিয়ত করে গেছেন এবং আমরা ৪ ভাই স্বাক্ষী দিয়েছি বাবাজানের সামনে যে আমরা একত্রে চলব এবং মেজো হুজুর যে নেতৃত্ব দেবেন সেই ব্যাপারেও আমরা স্বাক্ষী দিয়েছি। আরেকটা বিষয় রিসেন্টলি আমার কানে আসছে যে, একদল ছড়াচ্ছে ওছিয়ত নামার স্বাক্ষরের ব্যাপারে। শয়তানের কাজ শয়তানি করা। একদল ছড়াচ্ছে যে, বাবাজানের ওছিয়তনামা নাকি আমরা ২ ভাই স্বাক্ষর করছি আর ছোট হুজুর এবং বড়ো নাকি স্বাক্ষর করে নাই। আমি আপনাদেরকে একটু মনে করিয়ে দিতে চাই। বাবাজানকে রওজাস্থ করার দিন বাবাজানের ওছিয়ত আমাদের সকলের পক্ষ থেকে আমাদের শ্রদ্ধেয় ছোট হুজুর সবাইকে পাঠ করে শুনান। আপনাদের কি মনে আছে? পরবর্তীতে আমরা প্রত্যেকে মোর্শেদকে স্বাক্ষী রেখে মোর্শেদকে সামনে রেখে সেই ওছিয়তে স্বাক্ষী দিয়েছি। ওছিয়তটা মোর্শেদের জবান মোবারক থেকে বের হওয়া বাণী। আর যারা ফেতনা করছেন তারা সাবধান হন। প্রত্যেক আশেকে রাসুলরা যখন মোর্শেদকে ভালোবাসবে আমরা তাদের জন্য জান দিয়ে দিবো। আমি ফজল-এ-খোদা আবারও বলছি, আমরা ৪ ভাই যারা আমার পিতা আমার মোর্শেদকে দেওয়ানবাগীকে ভালোবাসবে তার জন্য আমরা জান দিয়ে দিবো। কিন্তু সাবধান যদি কেউ ফেতনা করার চেষ্টা করছেন তাকে ছাড় দিব না। এইখানে কোনো সুযোগ নাই ফেতনাকারীকে কমপ্রোমাইজ করার। কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। আপনারা যারা ফেতনার মন-মানসিকতা নিয়ে চলছেন সাবধান হন। কোনোরকম ফেতনা করবেন না। মোর্শেদ আমাদের ৪ জনকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন এটা মোর্শেদের তরফ থেকে আমাদের কাছে আমানত। আমরা ৪ ভাই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মোহাম্মদী ইসলামকে মোর্শেদ যেভাবে দিয়ে গেছেন ঐভাবে ধরে রাখার চেষ্টা করব। কোনো ব্যক্তি, কোনো পরিবার, কোনো গোষ্ঠী যদি ফেতনা করার চেষ্টা করেন শক্ত হাতে তাদেরকে প্রতিহত করব। আমি চাই কারবালার ময়দানে ইমাম হোসেন (রহ.)-কে যে শহীদ হইতে হইছে সেইটা আবার হোক। আমি চাইনা চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফ থেকে মহান মোর্শেদকে যেভাবে চলে আসতে হয়েছে সেটা আবার হোক। তাই আমরা ৪ ভাই একত্রিত হয়ে তাদেরকে শক্ত হাতে মোহাম্মদী ইসলাম থেকে বহিঃষ্কার করব।
সম্মানিত আশেকে রাসুল ভাইয়েরা!
একটা কথা মনে করিয়ে দিতে চাই দয়াল আম্মাজানের ওফাতের পরে বাসার খাদেমরা বাবাজানের খেয়াল রাখত। ওরাতো ছোট বাচ্চা ওদের অনেক সময় ভুল বেয়াদবি হত। তারপর আমরা পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাবাজানকে বিয়ে করিয়েছি। এই বিয়ে নিয়ে অনেকে ফেতনা করছে। সবাই চুপ হয়ে যান। আমরা পারিবারিকভাবে বাবাজানকে বিয়ে করাইছি। আমরা ৪ ভাই ২ বোন মিলে। এখানে আমরা কারো মতের কিছু করি নাই। বিয়ে করাইছি এই কারনে যাতে বাবাজানের সেবা ঠিকমতো হয়, একজন ব্যক্তি যেন দায়িত্ব নিয়ে বাবাজানের গোলামী করতে পারে, ২৪ ঘন্টা বাবাজানের পাশে থাকতে পারে। অন্য কোনো কারণ ছিল না এবং আমরা যাকে পছন্দ করছি, বাবাজান দয়া করে যাকে পছন্দ করছেন তিনি তাই করছেন। আম্মার কথা বলছি। তিনি দিনরাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২ থেকে ৩ ঘন্টা ঘুমাইছেন বাকী সময় বাবাজানের সেবা করছেন। উনার উপরে বাবাজান যথেষ্ট খুশি ছিলেন এবং খুশি হয়ে উনি আম্মার কাছে একবার ওয়াদা করছিলেন যে, আমি তোমাকে বিয়ে করছি তোমার সাথে আমি আরও ৫ বছর সংসার করব। কিন্তু যখন সাঈদুর এবং সাঈদুরের স্ত্রী এবং তার দুই পুত্র বহিঃষ্কার হয়ে গেল দরবার থেকে তখন পর্যন্ত ঠিক ছিল। তার কিছুদিন পর তারা বাবাজানের বিরুদ্ধে মামলা করল। একটা নয়, দুইটা নয়, তিনটা নয়, সর্বমোট চারটি মামলা করেছে তারা দয়াল বাবাজানের বিরুদ্ধে। বাবাজানের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা করার পর এবং তারা বাবাজানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকমের কুটুক্তি করেছে। এইগুলি বাবাজান শোনার পর, একদিন আম্মাকে ডেকে বললেন, তোমার কাছে আমি যেই ওয়াদাটা করেছিলাম সেইটা আমি আর রাখতে পারব না। তুমি কোনো মনে কষ্ট রাইখ না। বাবাজান যে ওয়াদা করছিলেন আগামী ৫ বছর উনার সাথে সংসার করবেন, এই ওয়াদাটা বাবাজান আর রাখেন নাই। বিপথগামীদের এই রকম আচরণে বাবাজানের মন সম্পূর্ণরূপে ভেঙ্গে গেছে এবং ওফাতের আগে বাবাজান যখন ওছিয়ত করছেন তখন আমাদের সামনে মেজো হুজুরকে ডেকে বলছেন, তুমি বেচে থাকতে ওদেরকে কখনো ছাড়বা না। আমাদের ৪ ভাইকে বলছে, তোমরা ওদেরকে কোনো সুযোগ দিবা না। কোনো সুযোগ নাই এবং সাথে আরো বলছে, ওরা সবসময় চেষ্টা করবে তোমাদের ক্ষতি করতে। তোমরা সবসময় ওদের থেকে সতর্ক থাকবা। তারা চেষ্টা করে যাচ্ছে এই যে তিনটা ফেতনার কথা বলতেছি এই তিনটা ফেতনা আই বিলিভ ওদের মাথা থেকে আসছে। এরকম ভয়ংকর, হিংস্র প্লেনিং ওদের মাথা ছাড়া আর কারো মাথা থেকে আসতে পারে না।
সম্মানিত আশেকে রাসুল ভাইয়েরা!
অনেকক্ষণ আলোচনা করছি, আর দুইটা বিষয় একটা আলোচনা করব। বাবাজানের ওফাতের দিন, আমি আপনাদেরকে মনে করাইয়া দিতে চাই। আমার কাজ গোলামী করা। মালিক দয়া করলে আমি যতদিন জীবিত আছি আমি গোলামদেরকে মোর্শেদকে ভুলতে দিব না, এই আমার দায়িত্ব। আমি লিখিতভাবে এই দায়িত্বটা পাই নাই। কিন্তু আমার অন্তর বলছে এইটা আমাকে করতে হবে। আজ যে বাবাজানের বাণীটা দেখছেন, দেইখা কি মনে হইছে বাবাজান নাই? মনে হয় না, বাবাজান আমাদের সাথে আছেন? আগে যদি দরবারে আসতেন, বাবাজানকে দেখতে হইলে দরবারে আসতে হইতো। এখন যদি বাবাজানকে দেখতে চান চোখটা বন্ধ করেন। চোখটা বন্ধ কইরা বাবাজানের চেহারা মোবারক স্মরণ করে দেখেনতো আপনার মোর্শেদ আপনার সামনে কিনা! যদি মোর্শেদ আপনার সামনে থাকে, আপনের অন্তরের মোর্শেদ আপনার ব্যাপার। আপনে কষ্ট পাবেন, আপনার মোর্শেদ কষ্ট পাবে। আপনে আনন্দ পাবেন, আপনার মোর্শেদ আনন্দ পাবে। মোর্শেদকে যদি ভুলে যান, অন্তরের মোর্শেদও চলে যাবে। এইখানে আমার কাজটা। আমি আজীবন চেষ্টা করব, প্রত্যেক আশেকে রাসুল দেওয়ানবাগীর গোলাম যারা আছে, তারা যাতে তার মোর্শেদকে ধরে রাখতে পারে। আর আপনারও সবসময় চেষ্টা করবেন। আমরা যাতে নিজেদের অন্তরে মোর্শেদকে ধরে রাখতে পারি। পরিশেষে যেটা বলব, বাবাজানের ওছিয়ত অনুযায়ী আমরা ৪ ভাই এখন সবচাইতে বেশি ইউনাইটেড, একত্রে আছি। আমাদের ৪ ভাইদের মধ্যে ফাটল ধরানো কোনো ফেতনাকারির পক্ষে সম্ভব না। ফেতনাকারির আমাদের মধ্যে ফাটল ধরাতে পারবেন না। আমরা ৪ ভাই সব সময় একত্রে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। এই যে হাতের পাঁচটা আঙুল। বড়ো হুজুর, মেজ হুজুর, আমি, ছোটো হুজুর। এই যে আমরা ৪ ভাই একত্র হইলাম। বাকি রইল এক আঙুল। এই আঙুলটা সবচেয়ে ছোটো। কিন্তু সবচেয়ে শক্তিশালী। বিশ্বাস করেন এই আঙুলটা হলেন আপনারা, আশেকে রাসুলরা। এই আঙুলটা যখন চারটা আঙুলকে প্রটেক্ট করল। তখন হাতের মুষ্টিটা পরিপূর্ণ হইল, হাতটা সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হইল। তাই আপনাদেরকে বলছি, আসেন আমরা সবাই সকল প্রকার ফেতনা থেকে বেরিয়ে এসে এক হয়ে কাজ করি। যে উদ্দেশ্যে আমরা একটা শ্লোগান দিয়েছি, দরবার শরীফে আলাদা আলাদা নামে আর কোনো ডিপার্টমেন্ট থাকবে না। এখন থেকে এই দরবার শরীফে একটাই ডিপার্টন্টে হবে, ‘দেওয়ানবাগীর দল’। আমাদের সকলের পরিচয়, আমরা দেওয়ানাগীর দল। আমার কথাটা মনে থাকবে আপনাদের?
সম্মানিত আশেকে রাসুলেরা!
মোর্শেদ নাই এই কথাটা কখনও বিশ্বাস করবেন না। মোর্শেদ আপনার অন্তরে। বাবাজানকে আমরা যখন রওজাস্থ করি। রওজাস্থ করার আগে দরুদে মাহদী পড়তেছিলাম। দরুদে মাহদী পড়তে পড়তে তখন আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসলো। চোখ বন্ধ হয়ে আসলে আমি দেখতে পারি আমার সামনে আমার মহান মোর্শেদ শুয়ে আছেন। একজন মোর্শেদ সামনে শুয়ে আছে, লক্ষ লক্ষ মোর্শেদ প্রত্যেক আশেকে রাসুলের উপরে একজন করে ছায়ার মতো দাড়িয়ে আছেন। আমি যেটা দেখেছি সেটা মোর্শেদের রুহানী রূপ, সেটা কখনও ভুল হয় না। আমি আমার মোর্শেদের উপরে বিশ্বাস রাখি। আমার মোর্শেদ আমার অন্তরে, আমাকে দিক নির্দেশনা দিবেন। আপনারাও আপনাদের মোর্শেদের উপরে বিশ্বাস রাখেন। আপনাদের মোর্শেদ আপনাদের অন্তরে, আপনাদেরকে দিক নির্দেশনা দিবেন। মোর্শেদ আমাদের সকলকে দয়া করুক। মোর্শেদ আমাদের সকলকে কিয়ামত পর্যন্ত মোহাম্মদী ইসলাম ধরে রাখার তৌফিক এনায়েত করুক। মহান আল্লাহ আমাদেরকে দয়া করুক। আমরা যেন আমাদের মোর্শেদকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অন্তরে ধরে রাখতে পারি। এই বলে আমি আমার আলোচনা শেষ করতেছি। আমি আপনাদেরকে বলে দিছি। আমার সাথে ছোটো হুজুর বসা আছেন। উনি দীর্ঘ সময় আমার সাথে আছেন।
প্রতি সপ্তাহে মোর্শেদকে ভোলার সুযোগ নাই। আপনারা আমাদের আলোচনা শুনবেন, আমরা মোনাজাত করে দিব। আমরা দিক নির্দেশনা দিয়ে দিব। প্রতি সপ্তাহে আমাদের আলোচনার পূর্বে, বাবাজানের পূর্বে ধারণকৃত বাণী মোবারকগুলো চালানো হবে। এগুলো আপনারা মনোযোগ দিয়ে দেখতে পারবেন। মোর্শেদের বাণীতে অনেক কিছু শেখার আছে। হেলায় ফেলায় সময় নষ্ট করে কোনো লাভ নাই। আর একটা ব্যাপার আমি বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। একটু বলে যাচ্ছি, জুম প্লাটফর্মে যারা দেখতে পারছেন, আপনাদের একটু সতর্ক হতে হবে। যারা দেখতেছেন তাদের অসতর্কতার কারণে আমাদের আগের যে জুম লিঙ্কটা ছিল, সেটা অফ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে আবার জুমকে রিফার্নিস্ট করা হচ্ছে। এই কারনেই অনেক আশেকে রাসুল ভাইয়েরা এখন দেখতে পারছেন না। কারন আমাদের অনেকগুলো লিংক বিপথগামীদের হাতে চলে গিয়েছিল জুমের এবং তারা এটা নিয়ে বিভিন্ন ইউটিউবার ফেসবুকদেরকে ফেসবুকারদেরকে এই ভিডিও মেইল করে পাঠাইছে। আর যারা জুম দেখতে পারতেছেন, তাদেরকে আমি বলব, মেজ হুজুরের কাছে শুকরিয়া জানান, উনি কষ্ট করে এই ব্যবস্থাটা করছেন।
জুমে আমাদের বক্তব্য আপলোড হইতে দেড়ী, লাইভ হইতে দেড়ী, স্ক্রীনশট তুলে ফেইসবুকে ছেড়ে দেন। স্ক্রীন ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেন, আরে ভাই দুনিয়াটাতো ফেসবুক না! মোর্শেদতো ফেসবুক না। কী পাইছেন আপনারা ফেসবুক? এই যে সেই দিন একটা আলোচনা শুনলাম আমাদের ফরহাদ সাহেব বললেন, এই ফেসবুক (আ.), ফেসবুক শরীফ আর ইউটিউব শরীফ বাঙালি যে কী পাওয়া পাইছে! আমরা বাবাজানের একটা বাণী লাইভ করতে, শেষ করতে পারিনা। ছবি তুলে ফেসবুক, ভিডিও করে ফেসবুক, ডিভিও করে ইউটিউব। কেন? এই ব্যবস্থাটা করা হইছে আপনাকে দেখার জন্য, মানুষকে দেখার জন্য না। জুম প্লাটফর্মটা তৈরি করা হইছে প্রত্যেক আশেকে রাসুল যেন সাপ্তাহিক অনুষ্ঠানে, সাপ্তাহিক মাহফিলে আর বিশ্ব আশেকে রাসুল সম্মেলনে, ইদে মিলাদুন্নবীতে, আশুরাতে দরবারের সাথে কানেক্ট থাকতে পারে। তার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে, বিপথগামীর দল আছে, কাফেররা আছে, তাদেরকে দেখানোর জন্য না। কিছু পাইলেই ফেসবুকে নেমে যাবেন না। আর ফেসবুক পরিচালনার ক্ষেত্রে আপনাদের যথেষ্ট সতর্ক হওয়া উচিৎ। ফেসবুক একটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আমি দেওয়ানবাগ শরীফের পেজটা চালাই। পেজটা চালাইতে গিয়ে আমাদের জাকের ভাইদের অনেক কমেন্টস্ আমাকে ডিলিট করতে হয়। আপনারা অতিরিক্ত আবেগ প্রসূত হয়ে, মালিক কথাটা যে ফেসবুকে লেখেন, এটা লেখবেন না। আপনার এই কথাটার পেছনে দশটা লোক গালি দেয়। আপনার মোর্শেদকে কী মনে করেন, সেটা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটা ফেসবুকের ব্যাপার না। আমি জানি না আজকে করবে কিনা, আজকেতো লাইভটা হচ্ছে, হয়ত বা আমি রুমে গিয়ে দেখব যে, আমার ছবি আপলোড হয়ে গেছে ফেসবুকে। এগুলো আবার আমার চোখের সামনে আসে। আপনি মনে করেন না অনলাইনে আমি নাই। আমাদের জাকের ভাইয়েরা কে কী করে। আমি সামনে আসি না, কিন্তু আমার চোখে সব পড়ে। আজকে বলার সুযোগ হইছে আমি আপনাদেরকে সাবধান করতেছি। এগুলি করে আমাদের বদনাম করবেন না। এখানে অনেক মারেফতের কথা হয়। একটা স্কুলে, ক্লাস টেনের ক্লাসে যে বইটা পড়ানো হয়, সে বইটা যদি একটা মূর্খ ছেলের হাতে ধরায়া দেন, সে আমাদের নিয়ে গালাগালি করবে। আপনারাও তাই করতেছেন। আমাদের বাণীগুলো কোট করে বুঝে না বুঝে সব নিয়ে ফেসবুকে, ইউটিউবে দিচ্ছেন। কেন? আগে বুঝেন! কোনটা সমাজের জন্য, কোনটা যারা সাধনা করতেছে তাদের জন্য। আমাদেরতো আলাদা করে বলার সুযোগ নাই। আমরা যা ছাড়ার দরকার হবে তা দরবার শরীফ থেকেই ছাড়ব এবং দরবার শরীফের অনুমোদিত ব্যক্তিরাই ছাড়বেন। অনুমতি ব্যতিত বাবাজানের ছবি, বিভিন্ন রকমের ছবি ছাড়তেছেন। আমার কাছে সবচেয়ে কষ্ট লাগে, একদল জাকের ভাই বাবাজানের সম্পূর্ণ শরীর মোবারক বাদ দিয়ে শুধু কদম মোবারকের ছবি ফেসবুকে দেন। মোর্শেদের কদমে মুরিদের স্থান আমি জানি। কিন্তু সম্পূর্ণ মোর্শেদ সম্মানতুল্য। পূর্ণ মোর্শেদকে সম্মান করতে হবে। শুধু কদম মোবারককে সম্মান করলে হবে না। কদম বলা হয়, কারণ মানুষের শরীরের সবচেয়ে নিম্নভাগে থাকে। এই কারনে আমরা তাঁকে শ্রদ্ধা দেখানোর জন্য পা ধরে চুম্বন করি। শুধুমাত্র কদম মোবারকের ছবি ফেসবুকে ছাড়তেছেন এটা বেয়াদবী। এটা বেয়াদবী ছাড়া আর কিছু না। যদি মোর্শেদের ছবি ছাড়তে হয়, মোর্শেদের চেহারা মোবারকের ছবি ছাড়েন, আমি না করব না। উল্টা-পাল্টা এগুলা কী ছবি? কাট-পিছ করা ছবি। তাহলে যারা ফেসবুক, ইউটিউবে বাবাজানের কাট-পিছ করে ছবি বানাচ্ছে, আপনাদের মত, পার্থক্য কী! দুইজনইতো কাট-পিছ করতেছেন।
মালিক দয়া করুক, আমাদের সকল আশেকে রাসুল ভাইয়েরা যাতে পালন করতে পারি। চেষ্টা করব মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মোর্শেদের গোলামী করার জন্য। আমরা ৪ ভাই আছি। ৪ ভাই একত্রে মোর্শেদের গোলামী করব, মৃত্যু আগ পর্যন্ত। এটা আমি আপনাদের কাছে ওয়াদা করছি। আবারও বলছি কোনো ফেতনাকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। সবাই ফেতনা থেকে দূরে থাকবেন। আমাদেরকে একত্র থাকতে সাহায্য করবেন, আমিন।
সম্মানিত আশেকে রাসুল ভাইয়েরা!
আমার আলোচনা এখন শেষ। এখন সকল আশেকে রাসুলদের উদ্দেশ্যে আমার শ্রদ্ধেয়, আমার ভালবাসার ছোটো ভাই, দয়াল বাবাজানের কনিষ্ঠ সাহেবজাদা ড. সৈয়দ এ এফ এম মঞ্জুর-এ-খোদা সাহেব আপনাদের সকলকে তওবা পড়াবেন। তওবা পড়িয়ে মোনাজাত করবেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন